সালথায় জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ-বাড়িঘর ভাংচুর ও গরু ব্যবসায়ীর ৯ লক্ষ টাকা লুটের অভিযোগ


ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৬/৭ জন আহত ও কমপক্ষে ৮টি বাড়ী ভাংচুর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনির বিশ্বাস ও মিশরু মিয়ার পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
এর জেরে মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬/৭ আহত হন। এ সময় আটটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আজ আনুমানিক বেলা ১২ ঘটিকার সময় ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মোন্তারমোড় বাজার সংলগ্ন বড় বাংরাইল গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে মনির বিশ্বাস এবং মিশরু মিয়া গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
মনির বিশ্বাস গ্রূপের আহতরা ব্যক্তিরা হলো: মজিবর বিশ্বাস, পিতা-মৃত সোনা বিশ্বাস, আছমত বিশ্বাস, পিতা-মৃত মোসলেম বিশ্বাস, কুদ্দুছ বিশ্বাস (৫৫) পিং মোমিন বিশ্বাস, সায়খা বেগম -স্বামী কুদ্দুছ বিশ্বাস ,সর্ব সাং-বড় বাংরাইল, উপজেলা-সালথা, জেলা-ফরিদপুর। গুরুত্বর আহতদের মধ্যে ৩জন ফরিদপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মোঃ কুদ্দুছ বিশ্বাস (গরু ব্যবসায়ী) পিং মোমিন বিশ্বাস তিনি জানান আমার ঘরে রাখা ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা আমারই চোখের সামনে লুট করে নিয়ে যায় আমি বাধা দিলে আমার হাতে রাম দা দিয়ে কোব দিলে আমি মাটিতে পড়ে যাই ওরা আমার স্ত্রী সায়খা বেগম কেও মারধর করে।
আমাকে ফয়সাল পিং রব ফকির,জোবায়েদ পিং আবুল ফকির আমকে মারতে থাকে জিসান পিং আমীন ফকির আমার হাতে রাম দা দিয়ে কোব দেয় এবং ঘরের সমস্ত মালামাল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।

এক পথচারী বলেন কুদ্দুছ বিশ্বাস খুবই নর্মভদ্র মানুষ সে গরুর ব্যবসা করে খায় এবং মাঝে মধ্যে আমারা দেখি ট্রাকভর্তি গরু নিয়ে আসে আবার বাজারে নিয়ে বিক্রি করে যার জন্য তার কাছে প্রায় সময়ই ৫/১০ লক্ষটাকা থাকে।
আসমত বিশ্বাস পিং মোসলেম বিশ্বাস তার মেয়ে তারমীন জানান আমার ভাই চয়ন(২২) খুবই অসুস্থ্য তাকে চিকিৎসা করতে আগামী মাসের ১ তারিখে ভারত নিতে যাবে সেই জন্য আব্বা দুটি গরু বিক্রি করে ৩ লক্ষটাকা জমা রেখে ছিলো স্যুকেসের ড্রয়ারে সেটি ভেঙ্গে আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা নিয়ে যায় আমরা এখন ভাইরে কি দিয়া চিকিৎসা করাবো।
এ বিষয়ে মোঃ মনির বিশ্বাস কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান তাদের (মিশ্রু মিয়া) সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এখনো আদালতে কেস চলমান রয়েছে এবং এই জমি নিয়ে কয়েকবার শালিশ দরবারও হয়েছে এবং শালিশ হওয়ার কথাও রয়েছে। আজকাল করতে করতে আজ তারা জোর করে জমিতে চাষ করতে গেলে বাধা দিলে এই ঘটনা হয়। তিনি আরো বলেন আমাদের প্রায় ৫০ লক্ষটাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

এ ব্যাপারে মিশরু মিয়া কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান হ্যাঁ এই জমি নিয়ে কয়েক দফা শালিশ বৈঠক হয়েছে কিন্তু শালিশগণ আজকাল বসবো ঘুরাতে ঘুরাতে আজ এই মারামারি ঘটনা ঘটেছে। মিশরু মিয়া আরো জানান গ্রুপের আহতরা হলো -আলতাফ মোল্যা, (৫৫)পিতা-ধলা মিয়া মোল্যা, খ) রাজু মোল্যা (২২) পিতা-আলতাফ মোল্যা।
খবর পেয়ে সালথা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.












কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে