সালথায় ভুল পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগে পেঁয়াজের চারা নষ্ট- কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ


ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দোকানদারের ভুল পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৪০ কেজি দানার চারা নষ্ট হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। উপজেলার চরবাংরাইল, পূর্ব ফুলবাড়ীয়া ও পিশনাইল গ্রামের কৃষকরা এ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গতকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল, যদুনন্দী ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া ও পিশনাইল গ্রামের মাঠ ঘুরে সরেজমিনে এ দৃশ্য দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজের ক্ষেতে দাঁড়িয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকরা।

চরবাংরাইল গ্রামের কৃষক খায়ের কাজী জানান, অনেক আশা নিয়ে ধারদেনা করে ১৮ কেজি পেঁয়াজের দানার বীজ বপন করেছিলেন। প্রায় ৬ একর জমিতে পেঁয়াজের হালি রোপণের পরিকল্পনা ছিল। ভালো ফলন পেলে বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করার আশা থাকলেও ভুল কীটনাশক ব্যবহারের কারণে সব শেষ হয়ে গেছে।
পিশনাইল গ্রামের কৃষক আঃ রব ফকির (পিতা- ছব্দু ফকির) বলেন, তিনি ২ কেজি দানার বীজ বপন করেছিলেন। দোকানদারের পরামর্শে ‘লাজিম কার্বেন্ডাজিম’(প্রবাহমান ছত্রাকনাশক—সুইট এগ্রোভেট লি.) নামের ওষুধ ব্যবহার করার পর তার সব চারা নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে সংসার চালাচ্ছেন।
পূর্ব ফুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক সাহাদৎ মোল্লা (পিতা- রাজ্জাক মোল্লা) জানান, আড়াই কেজি দানার বীজ থেকে সুস্থ চারা গজানোর পর চারার বয়স ২২-২৫ দিন হলে আরও শক্তিশালী করার আশায় মেসার্স কৃষিঘর বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মোঃ মিজানুর রহমান সেন্টুর পরামর্শে ওই কীটনাশক প্রয়োগ করেন। স্প্রে করার পরদিন সকালে গিয়ে দেখেন সব চারা হলুদ হয়ে নুয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নকল ও ভেজাল ওষুধের কারণেই এই সর্বনাশ হয়েছে এবং এতে তিনি মানসিক চাপে স্ট্রোকও করেছেন।
একই অভিযোগ করেন কৃষক রাশেদ কাজী (৬ কেজি), মোঃ আছাদ সেখ (৪ কেজি) ও মোঃ ওহিদ সেখ (৪ কেজি)। তারা সবাই ওই দোকান থেকেই কীটনাশক কিনেছিলেন বলে জানান এবং ক্ষতিপূরণসহ দোকান মালিকের বিচার দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজের হালিতে যে ‘লাজিম কার্বেন্ডাজিম’ ব্যবহার করা হয়েছে তা নকল ও ভেজাল ছিল। এর ফলেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রখর রোদের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়া খেতে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদন
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.












কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে