জনবল সংকটে ধুঁকছে নাকি অবহেলায় সালথার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ


চার পরিদর্শিকায় চলছে ৯ কেন্দ্র, সপ্তাহে একদিন খোলা থাকে কিছু কেন্দ্র ডিসেম্বর থেকে কোনো ঔষধ সরবরাহ নেই- পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ধুঁকছে নাকি অবহেলায় সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।
প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে সপ্তাহে মাত্র একদিন সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও আয়া ছাড়া অন্য কোনো কর্মী না থাকায় কেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গট্টি, আটঘর, রামকান্তপুর, ভাওয়াল, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, যদুনন্দী, বল্লভদীসহ মোট ৮ টি ইউনিয়নে ৯ টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ের জনগণকে পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন সেবা, প্রসব-পরবর্তী পরামর্শ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেবার মান ও পরিধি দুটোই কমে গেছে।
কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার সংখ্যা রয়েছে মাত্র চারজন। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টের পদ শূন্য রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীর সাতটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। আয়ার দুটি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, জনবল সংকটের কারণে ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে একজন পরিদর্শিকাকে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অফিস থেকে জানা গেছে, গট্টি ও ভাওয়াল, আটঘর ও রামকান্তপুর, সোনাপুর ও মাঝারদিয়া এবং বল্লভদি ও যদনন্দী কেন্দ্র পরিদর্শিকাদের দায়িত্ব ভাগ করে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সব কেন্দ্রে নিয়মিত সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, রামকান্তপুরের আসমা বেগম বলেন, ওষুধের জন্য আসি, বেশির ভাগ সময়ই ঘুরে যাই। খারদিয়া এলাকায় জয়নাল মাতুব্বর বলেন, ক্লিনিকটা প্রায় ভূতের ঘরের মতো, সপ্তাহে একদিন খোলে, তাও ওষুধ পাওয়া যায় না। প্রায় ৬০ বছর বয়সী ছবুরন বেগম বলেন, কেন্দ্রটা কবে খোলে, কবে বন্ধ থাকে বুঝি না। ওষুধ না পেলে আমরা যাব কোথায়?
চান্দা খোলা মিনাজদিয়ার সোনাপুর ইউপি সদস্য মজনু সরদার জানান প্রায় ৯ মাস হলো এখান থেকে কোন স্বাস্থ্য সেবা ও কোন ঔষদ পাচ্ছেনা ভোক্তভোগীগণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন সেবা দানকারীর ব্যবহার ও ভাল নয় আমারা আসলে সে খেঁচমেচ করে বলে ঔষধ কিনে খেতে পারেন না আমরা কোথা থেকে ঔষধ দিবো। এ বিষয়ে সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যার সাথে মুঠোফোনে তিনি ব্যস্ত থাকায় যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হই।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুবিউল ইসলাম বলেন, ওষুধপত্র ও কনট্রাসেপটিভ সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। জনবল সংকটও রয়েছে। শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। গত ডিসেম্বরের পর থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদন
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.















কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে