ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাকি টাকা চাওয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও গুলির হুমকি’র অভিযোগ


ফরিদপুরের দৈসিগারেটের বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মুদি দোকানে হামলা ও গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহেদ মোল্লার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে রফিকুল শেখ আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গতকাল সোমবার (৯ জুন) সকালের দিকে শাহেদ রফিকুলের দোকানে গিয়ে সিগারেট খান। রফিকুল পূর্বের বাকি টাকার কথা তুললে শাহেদ ক্ষিপ্ত হয়ে কথা-কাটাকাটি করে।স্হানীয়রা বিষয়টি নিয়ে উভয়কে শান্ত করে দিলে শাহেদ বিকেল ৫ টার পরে দলবল এনে দোকানের ভেতর ভাঙচুর চালান এবং তাকে গুলি করে মারার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে স্হানীয়রা জানান ।
যুবদল নেতা সাহেদ বলেন,আমি দলবলসহ হামলা করিনি।আমাকে অপমান করায় আমার বংশের চাচা ও ভাই ব্রাদার ৫/৬ জন শুনতে এসেছে।চাঁদাবাজি, হামলা ও পিস্তল দিয়ে গুলি করার ভয় দেখায়নি। তাদের সব অভিযোগ মিথ্যা।আমি পৌর যুবদলের আহবায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমানের গ্রুপের দল করি। ভুক্তভোগী রফিকুল শেখ (৩৫), পিতা দেলোয়ার শেখ—একজন মুদি ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত শাহেদ মোল্লা (৩০), পিতা জুয়েল মোল্লা—উভয়ের বাড়ি কামারগ্রামে।
রফিকুল বলেন, “সে অনেক দিন ধরে আমার দোকান দফায় দফায় সিগারেট নিয়ে টাকা দেয় না। টাকা চাইলে আমাকে আগেও মারার চেষ্টা করেছে। কয়েক মাস আগে থানার এসআই মফিজুর স্যারকে মৌখিকভাবে জানাই। পরে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, তিনি মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
আরও বলেন, “এসআই মফিজ স্যারকে বলার পর সে আরও ক্ষেপে যায়। দোকানে এসে আবার হুমকি-ধামকি দিতে থাকে,৫ আগষ্টের পরে যুবদলের নেতা পরিচয়ে বেপরোয়া হয়ে সিগারেট নিয়ে যায়,সিগারেট না থাকলে তাকে নগদ টাকা দিতে হয় এবং কোনটাই দিবো না বললে চাঁদা দাবি করে দোকানে ভাঙচুর চালায়, মালামাল ছুড়ে ফেলে দেয়। তারপর বলে ‘তোকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলবো’, এই হুমকি দিয়ে আমাকে দোকানের ভেতরে রেখেই সাটার টেনে দেয় এবং বাইরে থেকে লাঠিসোটা দিয়ে সাটারে আঘাত করে। আমি ভিতরে আতঙ্কে থাকি। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়।”
রফিকুল অভিযোগ করার কয়েক ঘণ্টা পরই দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিশোধমূলক হামলার শিকার হন তার আত্মীয় কাওছার খান। তিনি পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। কাওছার তার মামাতো ভাই মান্দার ও ৮ বছরের ছেলে আলিফকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে কামারগ্রামের দারোগা বাড়ীর সামনে শাহেদ ও তার দলবল তাদের গতিরোধ করে।
কাওছার খান জানান, “মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পর শাহেদ ও তার লোকজন আমাকে ও আমার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। এতে আমরা গুরুতর আহত হই।”
এই হামলার ঘটনায় কাওছার খান মঙ্গলবার বিকেলে আলফাডাঙ্গা থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন যুবদল নেতা শাহেদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ও আমাদের যুবদলের নেতা,দারগার কাছে মৌখিক অভিযোগ করার পরে মিমাংসা করে দিছি।কখনও বাকি টাকা পাইলে আমার কাছে বলবেন আমি দিয়ে দিবো। তারপরেও আবার সিগারেটের বাকী ২০০ টাকা পাবে এই নিয়ে মারামারি হয়েছে।তবে তাদের কাছে কোন পিস্তল ছিল না।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা শাহেদ মোল্যা বলেন,আমি গোপালপুর ইউনিয়ন যুবদল কামারগ্রাম ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি আমার কাছে ২০০ টাকা পাবে, অপমান করায় আমার বংশের ৫/৬ জন শুনতে গেলে তাদের উপর হামলা চালায়।আমি চাঁদা চাওয়া,ভাংচুর ও পিস্তল দিয়ে গুলি করা কোনটাই করিনি।
তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ শাহিন মোল্লা বলেন, “শাহেদ নামে আমি কোনো যুবদল নেতাকে চিনিনা। ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনও কোনো কমিটি হয়নি। কেউ ওই পরিচয় ব্যবহার করলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, এর দায় দল নেবে না।”
আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল বলেন, “আমরা রফিকুল শেখ ও কাওছার খানের দুটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরিফুজ্জামান চাকলাদার
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.











কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে