বিভিন্ন যায়গায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে-DVB


চট্টগ্রামে সহিংসতায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় দুইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, নিহত ওই দুইজনের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র। তার নাম আকরাম হোসেন। তবে, অপর পথচারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

পুলিশ কমিশনার মি. ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাথে নগরীর তিনটি জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে। তবে, কোন জায়গার সংঘর্ষে তারা মারা গেছে সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি।
তিনি বলেন, নিহত পথচারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও, চট্টগ্রাম কলেজের নিহত ওই ছাত্রের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নি। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ কোথাও কোন গুলি চালায় নি।
ঢাকার সায়েন্স ল্যাবে সংঘর্ষ, বেশ কয়েকজন আহত

ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে পথচারীসহ বেশ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা।
এতে মিরপুর সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর দু্ইটার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করলে পথচারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
লাঠিসোটা নিতে এসে মারধর
শহীদ মিনারের সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাঠি সোটা নিতে আসলে সহকারি প্রক্টর ড. আব্দুল মুহিতকে মারধর করে শিক্ষার্থীরা।প্রক্টোরিয়াল বডির বেশ কয়েকজন সদস্য ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের বের হয়ে যাবার নির্দেশ দিয়ে হ্যান্ড মাইকিং করছিলেন
এ সময় শহীদ মিনারে থাকা কোটা আন্দোলনকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে প্রথমে ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করতে থাকেন এবং পরে মারধর শুরু করেন।
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি, ছাত্রলীগ গতকাল প্রচুর বহিরাগত নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাদের কিছু না বলে প্রশাসন আজ প্রকৃত ছাত্রদের কাছে এসেছে।
কোটা সংস্কার, আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী

কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে কিছুই করবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
প্রশ্ন উঠেছে কোটা আদালতের বিষয় নয়, সরকারের বিষয়- একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ”আদালতে যখন একটি বিষয় যায়, তখন সরকার অপেক্ষা করে আদালত কি বলে, তারপর সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় হয়। তাই কোটার বিষয়ে সরকার আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।’
”সরকার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতকে সম্মান করবে। কোটার বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিবে সরকার সেটা বিবেচনা করবে। সেটা প্রতিপালন করার চেষ্টা করবে। সরকার কোটার বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে কিছুই করবে না।”
ঢাকায় একটি সেমিনারে আইনমন্ত্রী বলেন, ”প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করেন। এরপর ৭ থেকে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে মামলা করেন। আজ যারা কোটা আন্দোলন করছেন, তারা তো হাইকোর্টে যাননি। হঠাৎ একদিন যখন হাইকোর্টের রায়ের কথা পত্রিকায় বের হয়েছে, তখন তারা আন্দোলনে নেমে পড়েছেন। পরে তারা হাইকোর্টে না গিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তিনি বলেন, ”স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকারী ছাত্রছাত্রীরা চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন। আদালত মূল দরখাস্ত বিবেচনা, নিষ্পত্তিকালে তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেবেন। সর্বোচ্চ আদালত তাদের এ আশ্বাস পর্যন্ত দিয়েছেন। তারপরও এ আন্দোলন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে? আন্দোলনের যে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, এর প্রয়োজনীয়তা থাকে?’
ধংসাত্মক কাজ করলে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা ধংসাত্মক কোনও কাজ করলে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। “চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলন করা হচ্ছে, তা নিয়ে বলার কিছু নেই। কিন্তু তারা যদি ভাঙচুর করেন, কারও পরামর্শে-নেতৃত্বে ধংসাত্মক কাজ করেন, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না,” বলেন মি. কামাল।
তিনি আরও বলেন, “ধ্বংসাত্মক কিছু করলে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে, রক্ত ঝরালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাজটি করবে। তাদের (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর) প্রতি তা-ই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
“যেখানেই ভাঙচুর হবে, রক্তপাত হবে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার দায়িত্ব পালন করবে,” বলেন মি. কামাল। রাস্তা অবরোধ দাবি আদায় সঠিক পন্থা নয় মন্তব্য করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সময় মতো যথাযথ অ্যাকশন নেওয়া হবে: ওবায়দুল কাদের, কোটা আন্দোলনের পেছনে মতলবি মহল আছে বলে দাবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকার সময় মতো অ্যাকশনে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বর্তমানে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, সেটি নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“কোটা সংস্কার আন্দোলন যা বাংলাদেশে চলছে এর নেতৃত্ব নিয়েছেন লন্ডনের দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান। তার দল বিএনপি প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে। একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে,” বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মি. কাদের।
“আমরা জোর করে আন্দোলনের ওপর চড়াও হবো, তখন আপনি কি বলবেন? সময় মতো সব কিছুই দেখবেন, সময় মতো যথাযথ অ্যাকশন নেওয়া হবে,” সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন মি. কাদের।
ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ, মহাখালী রেললাইনের দু’পাশে দু’টি ট্রেন আটকে আছে

ঢাকার মহাখালীতে রেললাইন অবরোধ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
দুপুর দুইটার দিকে সরকারি তিতুমীর কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটিসহ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা মহাখালীতে সমবেত হতে শুরু করেন।
এসময় তারা মহাখালী রেললাইনের উপর অবস্থান নিলে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহাখালী রেললাইনের দু’পাশে দু’টি ট্রেন আটকে পড়েছে।
রংপুরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ ইউনুস আলী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে আবু সাঈদ নামের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মারা গেছে। তার বাড়ি গাইবান্ধায়।
স্থানীয় সাংবাদিক ফেরদৌস জয় বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন,দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও গুলি করে।
এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হলে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত আবু সাইদ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
কোটা আন্দোলন ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য ও বাংলাদেশের হতাশা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথু মিলার যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে হতাশা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাথু মিলার বলেছেন,“আমরা ঢাকা ও বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভের বিষয়ে সচেতন ও পর্যবেক্ষণ করছি, যেখানে দুজন নিহত হয়েছে এবং শত শত আহত হয়েছে,” বলছিলেন তিনি।
তবে মি. মিলার দুইজন নিহত হবার যে তথ্য দিয়েছেন, তা বিবিসি নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, “মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা যেকোনো ক্রমবিকাশমান গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য বিষয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো সহিংসতার নিন্দা জানাই।”
তবে তার এই বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন বলেছেন, ম্যাথু মিলারের বক্তব্যে তারা অত্যন্ত হতাশ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন মঙ্গলবার দুপুরে এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে দুইজনের মৃত্যুর যে দাবি করেছেন, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।”যাচাই না করে ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এমন মন্তব্য সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে,” বলেন মিজ সাবরিন।
আন্দোলনকারীদের দখলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রলীগের কোনও অবস্থান দেখা যায়নি

গতরাতের হামলার ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে ফের বিক্ষোভ শুরু করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক শ’ শিক্ষার্থীও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
ক্যাম্পাস ঘুরে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবশেদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে আছেন।
কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি সোমবার রাতে আন্দোলনকারীদের উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবি করেছেন তারা। অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোনও অবস্থান দেখা যায়নি। মঙ্গলবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনেকের হাতে লাঠি-সোটা দেখা গেছে।
তারা বলছেন যে, আত্মরক্ষার্থেই তারা নিজেদের কাছে লাঠি রেখেছেন। উল্লেখ্য যে, সোমবার মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মধ্য রাতে ছাত্রলীগ এবং বহিরাগতরা মিলে তাদের উপর দফায় দফায় হামলা করেছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বেশকয়েকজন শিক্ষকও আহত হয়েছেন।(তথ্য সংগৃহীত)
ভিডিও দেখুনঃ-https://fb.watch/tme4-fi4tw/
নিজস্ব প্রতিবেদন
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.





