সুনামগঞ্জ এক আসনে নৌকার জয়জয়কার -মাথায় হাত স্বতন্ত্র প্রার্থীর


আসন্ন দ্বাদস জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ ১ আসনে নিবার্চনি আমেজ জমে উঠেছে। প্রচার প্রচারণা,পথসভা ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এই আসনে প্রার্থীরা একে অন্যের দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করে ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের নিজেদের কাছে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিন্তু সব চেষ্টাই যেন বিফলে যেতে চলেছে সুনামগঞ্জ-১ আসনটিতে, এখানে আওয়ামী লীগের কর্মীবান্ধব ও একজন ক্লিন ইমেজের ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগ, যুবলীগ থেকে আওয়ামীলীগে উঠে আসা বর্তমান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য এডভোকেট রনজিত সরকার কে নৌকার প্রার্থী করায় এই আসনে বিদ্রোহীরা তেমন সুবিদা করতে পারছেনা।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পরে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে কোনটিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হওয়া দুরের কথা তারা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে ভোটের মাঠ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এই আসনে জাতীয় পার্টি সহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন তারা বিএনপি ও বিএনপির জোটের ভোটারদের কাছে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ভোট বিক্ষা প্রার্থনা করছেন।
তিন বারের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বর্তমান এমন অবস্থা ও জনশুন্য হওয়ার ব্যাপারে সুনামগঞ্জ এক আসনের কয়েকজন সচেতন শিক্ষিত সমাজের মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান,গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তার আপন সহোদর কে দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করিয়ে এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তার সমর্থক না হওয়ায় তিনি ও তার সমর্থকদের দিয়ে নৌকাকে পরাজিত করেছেন আমরা দেখেছি, এছাড়াও তার সহোদরের বিরুদ্ধে উপজেলাবাসীর অনেক অভিযোগও রয়েছে তা কয়েকদিন আগেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিসের কয়েকটি ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে শুনেছি।
এছারাও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার ও স্থানীয় একজ সাংবাদিকের ফোনকল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ফাঁস হয়েছে, সেখানে ইয়াসমিন আক্তার কে বলতে শুনা যায়, এমপির বাড়িতে যে ইয়াবার আসর বয় তা তরা লেখতে পারছ না।এসব কিছুই সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নির্বাচনের কাল হয়ে গেছে।
মানুষ বলাবলি করতে শুনেছি যে উনি মাদক মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, আর ইয়াসমিন আক্তার বলেন উনার বাড়িতে মাদকের কারখানা,তাই সুশীল সমাজের সচেতন মানুষ তাকে ভোট দিবেনা এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বলবলি করছে যে দীর্ঘ ৮৬ সালের পর এবার একজন আওয়ামীলীগের প্রার্থী তাঁরা পেয়েছেন, এর আগে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এসেছেন তারা কেউ মনোনয়ন পাওয়ার আগে আওয়ামী লীগের ছিলনা।
মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সম্পর্কে কেন মানুষের এমন ধারণা তা জানতে তার ব্যাবহারিত মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল দিলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ সহ বেশ কয়েকজন নেতার সাথে নির্বাচন বিষয়ে আলাপ করলে তাঁরা বলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি এখানে বার বার নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। যারা স্বতন্ত্র হয়ে এসেছেন তারা নৌকার ধারে কাছেও যেতে পারবেনা।
এই এলাকার জনগন বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে এডভোকেট রনজিত সরকার কে নৌকা মার্কায় আগামী ৭ তারিখে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আসনটি উপহার দেবে ইনশা-আল্লাহ। যারা স্বাধীনতার প্রতিক নৌকার খেয়ে পরে,আজকে নৌকা কে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধ টাকার গরম দেখাচ্ছে তারা তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে আফসোস করতে করতে বাড়ি ফিরবেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.













কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে