কবিতা-পেঁয়াজ. লেখক- ইসমাইল হোসেন ফরিদ


কবিতা-পেঁয়াজ
ইসমাইল হোসেন ফরিদ
সিনিয়র শিক্ষক
ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
পেঁয়াজ এখন এমন মসলা
সবারই তা চাই,
এটি ছাড়া দিন চালাবে
এমন কেহ নাই।
দিনদিন ব্যবহার এর
বাড়ছে মোদের কাছে,
জানিনা মোরা, ফলায় যারা
তারা কেমন আছে।
নানা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে
যারা এটা ফলায়,
তাদের দুঃখ শুনিনি কেউ
বলছে উঁচু গলায়।
পেঁয়াজ চাষের চাষী ভাইদের
জীবন ভারী কঠিন,
গাধার খাটুনি খেটে তাদের
কাটে রাত্রিদিন।
পেঁয়াজের বীজ স্পর্শকাতর
এদিক ওদিক হলে,
সঙ্গে সঙ্গে সব পুঁজি
জলে যাবে চলে।
ধৈর্য ধরে, পরম স্নেহে
লালন করতে হয়,
সদাই থাকে অল্প ভুলে
সব হারানোর ভয়।
পেঁয়াজের চাষ নয়রে সহজ
ঝুঁকি আছে বহু,
আবহাওয়া খারাপ হলে
চিন্তা মুহুর্মুহু।
একটানা বৃষ্টি হলে
মাঠেই যায় তা পচে,
সব হারিয়ে হয় রে ফতুর
এই দুঃখ কী ঘোচে?
চাঙ্গে উঠলেই ভাবছো তোমরা
দিয়ে দিলো পাড়ি,
পচন ধরলে চাষীদের হয়
আরেক মাথায়বাড়ি।
ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম
থাকে খুবই কম,
পূঁজি ওঠাতেই কৃষক ভাইদের
বেরিয়ে যায় দম।
কোন কারণে দেশীয় পেঁয়াজের
ফলন যদি কমে,
বিদেশ থেকে আনতে হয় তা
অনেক চড়া দামে।
দেশজুড়ে হৈ চৈ তখন
শুরু হতে দেখি,
মনে হয় যেন কারা এসে
মারছে মাথায় ঢেঁকি।
বন্ধ হলে পেঁয়াজের চাষ
দেখো একটু ভেবে,
ক’দিন পরে পুরো জাতির
কী অবস্থা হবে?
ঘাম ঝরিয়ে কৃষক ভাইয়েরা
দিচ্ছে এটা সস্তায়,
তারপরেও কেন তাদের
ভরি আমরা বস্তায়?
দিনরাত খাটে তারা
ঝরিয়ে তাদের ঘাম,
সবসময় কী পায় তারা
এর ন্যায্য দাম?
বিক্রির ক্ষেত্রেও সইতে হয় তাদের
আরেক অত্যাচার,
জানিনা আমি এটা করে তারা
কেমনে হচ্ছে পার।
ওজনের ক্ষেত্রে টাল্টিবাল্টি
প্রায়ই শোনা যায়,
বাটপাড়রা প্রায়ই এদের
লুটেপুটে খায়।
রোদ বৃষ্টি ঝড় ঝঞ্জা
নিত্য তাদের সাথী,
পায় না রেহাই, যতদিন না
নিভে জীবন বাতি।
নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যের
যোগানদাতা যারা,
মোদের নিকট যোগ্য সম্মান
পায় কি কখনো তারা?
দিনদিন ব্যবহার এর
হচ্ছে বহুমুখী,
তা সত্ত্বেও কৃষক ভাইদের
কমেনি কোন ঝুঁকি।
অন্য দেশেও জন্মে পেঁয়াজ
তা নয়রে তত কড়া,
মোদের দেশের পেঁয়াজ হচ্ছে
সকল দেশের সেরা।
করোনার ওষুধ এ পেঁয়াজ থেকে
হলেও হতে পারে,
আমার কথা আজগুবী ভেবে
ফেলে দিও নারে।
আমার কল্পনা সত্য হলে
দুশ্চিন্তার হবে শেষ,
ধন্য হবে পেঁয়াজ চাষী
ধন্য বাংলাদেশ।
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.


