September 26, 2022

দৈনিক ভোরের বার্তা

সঠিক পথে সত্যের সন্ধ্যানে

অভয়াশ্রম মৎস  আইন কি শুধু ডিঙ্গি নৌকার জেলেদের জন্য-রিপোর্ট ভোলা প্রতিনিধি

1 min read
নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না কেউ

ছবি-দৈনিক ভোরের বার্তা

ভোলার মেঘনা তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না কেউপ্রকাশ্যেই হাঁকডাক দিয়ে মাছ বিক্রি হচ্ছেজেলে নৌকার সমাগমে জমজমাট নদীপাড়ের মাছঘাটগুলো

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই মাছ ধরা ও বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবী তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে জেলেদের অভিযোগ নিষিদ্ধ সময়ে পেটের দায়ে তারা নদীতে যাচ্ছে, জেলেরা এখনো তাদের বরাদ্দকৃত চাল পায়নি। রাজাপুরের আনিস মাঝি, জামাল মাঝি, রামদাসপুরের হযরত আলী মাঝি বলেন, নদীতে প্রশাসন শুধু ডিঙ্গি নৌকার জেলেদের আটক করে সাজা দেয় কিন্তু বড় বড় ট্রলারে প্রভাবশালী ব্যাপারীদের ছত্রছায় মাছ শিকার হচ্ছে প্রশাসন তাদের আটক করে ব্যাপারীদের নাম শুনলে ছেড়ে দেয় আবার বিকাশে টাকা ও লেনদেন হয় নদীতে বলে ও জানান তারা।

 

নাম প্রকাশ না করার সত্ত্বে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, কি বলবো আর ভাই?  দেখেন আর কি মাছ কেনাবেচা হচ্ছে সবই ম্যানেজ করে হচ্ছে তা ছাড়া খুটা, বিহিন্দি, পাইজাল, ভেড়াজালে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ নিধন হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান হচ্ছে না আর হলেও নামেমাত্র হয়।

 

ভোলার রাজাপুরের জোরখাল, রামদাসপুর কুট্রির ঘাট, ইলিশার চদারমাথা, বিশ্বরোড, তেমাথা, ভাংতির খাল,দক্ষিণ ইলিশা, ধনিয়া, শিবপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অভয়াশ্রম হিসেবে মেঘনা নদীকে সরকার ঘোষণা করেছে, তার চিহ্ন দেখা যায়নি এসব মাছ ঘাটগুলোতে।

 

শত শত জেলে নৌকা মাছ ধরে নিয়ে ভিড়ছে এসব ঘাটে। জেলে নৌকায় বোঝাই করে মাছ আসছে আর প্রকাশ্যে হাঁকডাক দিয়েই তা বিক্রি করা হচ্ছে। একই সাথে বরফ দিয়ে বিশাল বিশাল ঝুড়ি বোঝাই করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে উপস্থিত হতেই ঝুড়ি বোঝাই একটি ট্রলার দ্রুত ঘাট ত্যাগ করে রাজাপুর ইউনিয়নের জোড়খাল মাছ ঘাটে চলে যায়। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা রাজাপুর এলাকার জোড়খাল মাছ ঘাটে।

শত শত নৌকা নদী থেকে ইলিশ ও পোনাসহ অন্যসব মাছ নিয়ে ঘাটে আসছে। আড়ৎদাররা তা হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করছে। ইলিশার জেলে আজগর মাঝি বলেন নদীতে প্রশাসনের সাথে যে মাঝিরা যায় তাদের মাধ্যমেই লেনদেন হয়, অভিযানে প্রশাসনের মাঝিরাই সব।

 

ইলিশাঘাটের এক দোকানদার বলেন, কিসের অভিযান আবার?  লঞ্চে প্রকাশে মাছ উঠাচ্ছে ঝুড়িঝুড়ি,প্রশাসনের সামনে  তারা চুপ শুধু নদীতে গিয়ে দাড়ের নৌকার জেলেদের আটক করে সাজা দিতে পারে। আইন তো ডিঙ্গি নৌকার জেলেদের জন্য?

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ৪২৮ জন জেলে আটক করা হয়েছে এবং ৪৬ জনকে জেল দেওয়া হয়েছে, অন্যদের জরিমানা করা হয়েছে  আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বেশ কিছু এলাকায় চাল দেওয়া হয়েছে সদরের ইউনিয়ন গুলোতে আগামীকাল থেকে দেওয়া হবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।  নৌ পুলিশের ওসি শাহজালাল কে একাদিকবার ফোন দিলেও তিনি রিছিভ করেননি।

ভোলা প্রতিনিধি

দৈনিক ভোরের বার্তা

 

Leave a Reply

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial