সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুগিকান্দায় সংঘর্ষ বসতবাড়ি ভাঙচুর-DBB


ফরিদপুরের সালথায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলা-পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের যুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি বশির মাতুব্বরের সঙ্গে যুবদল নেতা জাহিদ মাতুব্বর, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাজীবের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
শুক্রবার রাতে ওই বিরোধের জের ধরে বশির মাতুব্বরের সমর্থক আফজাল, রওশন ও মিজানের সঙ্গে জাহিদ মাতুব্বর, হেমায়েত হোসেন ও রাজীবের সমর্থক এসকেন, শাহিন ও সোহাগের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে উভয় পক্ষের শতাধিক সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষ হামলা-পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে পাশের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘বশির মাতুব্বরের দোকানে বসে তার সমর্থক আফজাল, রওশন ও মিজান আমাদের সমর্থক এসকেন, শাহিন ও সোহাগকে বলেন, শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়েছেন। তিনি দ্রুত ফিরে আসবেন। তখন তোমাদের দেখে নেওয়া হবে। কেউ রেহাই পাবে না। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।’
উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি বশির মাতুব্বর বলেন, আমি জাতীয় নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলন করে কৃষক লীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করি। এরপর থেকে আমি বিএনপির রাজনীতি করছি। গতকাল তাদের সমর্থক রফিকের সঙ্গে আমার সমর্থকদের পাট শুকানোর বাঁশ বাঁধা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রফিক তাদের লোকজনকে ফোন করে এনে আমার দোকান, বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
শেখ হাসিনা আসবেন, কেউ রেহাই পাবে না’ এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমার নামে মিথ্যাচার করা হয়েছে।’
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে প্রায় ছয়জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.












কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে