ফরিদপুর ডিবিতে বদলি ও ‘নাটকীয়’ রদবদল নিয়ে তোলপাড়


যোগদানের মাত্র তিন দিনের মাথায় ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে।
তাকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করে গত সোমবার (২৯ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে, গত ২৩ জুন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম (পিপিএম) স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে ফরিদপুর ডিবিতে পদায়ন করা হয়েছিল। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এই আকস্মিক বদলি এবং ডিবির সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রজ্ঞাপনে এই বদলিকে ‘প্রশাসনিক কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে পরিদর্শক রাকিবুল ইসলামকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নতুন কর্মস্থলে (খুলনা রেঞ্জ) যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৯ জুলাই থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য হবেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুই বছরে এ নিয়ে মোট পাঁচবার বদলি হলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তাকে ঢাকা রেঞ্জ থেকে বরিশাল রেঞ্জ, সেখান থেকে পুনরায় ঢাকা রেঞ্জ, এরপর ট্যুরিস্ট পুলিশ, আবার ঢাকা রেঞ্জ এবং সর্বশেষ ফরিদপুর থেকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হলো।
তার এই ঘন ঘন বদলির পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে খোদ পুলিশ বিভাগের ভেতরেই নানা আলোচনা চলছে। হঠাৎ এই বদলির আদেশে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম নিজে। তিনি বলেন, “ফরিদপুরে যোগ দেওয়ার পর মাত্র কয়েকটা দিন দায়িত্ব পালন করেছি।
এই সময়ে কোনো অভিযানও চালানো হয়নি, কোনো অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রশ্নই আসে না। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে কেন এত দ্রুত বদলি করা হলো, তা নিয়ে আমি নিজেই বিস্মিত।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এখতিয়ারভুক্ত। বদলির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে ফরিদপুর জেলা ডিবির এক আলোচিত মুহূর্তে কেন এই কর্মকর্তার যোগদান এবং মাত্র তিন দিনের মাথায় রেঞ্জ বদলি হলো—সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন ফরিদপুর ডিবি হেফাজতে প্রান্ত নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পরই তৎকালীন ডিবি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয় এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে।
সাধারণ জনগণের একাংশের মতে, ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ধাবিত করার জন্যই তড়িঘড়ি করে এই রদবদল করা হয়েছিল, যা ছিল এক ধরনের ‘নাটকীয় অধ্যায়’।
রাকিবুল ইসলামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় হওয়ায় স্থানীয়দের অনেকেই তাকে ‘গোপালী পুলিশ’ আখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে পরিদর্শক রাকিবুল ফরিদপুর ডিবিতে ইনচার্জ থাকাকালীন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতাসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
বিতর্কিত অতীত এবং ডিবি হেফাজতের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন দিনের মাথায় তার এই রেঞ্জ বদলি জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফরিদপুর জেলা ডিবি পুলিশের ভাবমূর্তি ও স্বচ্ছতা রক্ষার্থে এ ধরনের বিতর্কিত ঘটনার অচিরেই অবসান ঘটবে এবং পুলিশ প্রশাসন আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ফরিদপুরের সচেতন মহল।
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.











কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে