ফরিদপুরে সাবেক ফুটবলার ও জাতীয় কোচ সামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর মোড়ে অবস্থিত সাড়ে ১২ তলা বিশিষ্ট “হাকিম টাওয়ার” ভবনের ছাদ দখল এবং মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ এস.এইচ.এম. সামসুদ্দোহা চাঁদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ও তার পরিবার নিজেদের নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক মর্যাদাহানির অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর মোড়ে অবস্থিত সাড়ে ১২ তলা বিশিষ্ট “হাকিম টাওয়ার” ভবনটি জমির মালিকপক্ষ ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ‘শাহ ফরিদ রিয়েলস্টেট কোম্পানি’র মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভবনের ছাদের ৪০ শতাংশের মালিক জমির মালিকপক্ষ এবং ৬০ শতাংশের মালিক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ করা হয়, ভবনটিতে ডেভেলপার কোম্পানির অংশ থেকে মো. জামাল নামের এক ব্যক্তি দুটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। তিনি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ৬০ শতাংশ ছাদ ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমির মালিকপক্ষের ৪০ শতাংশ অংশে ছাদবাগান গড়ে তোলেন।
জমির মালিকপক্ষ তাদের নির্ধারিত অংশে বাগান করতে নিষেধ করলে এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের অংশে বাগান সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালে মো. জামাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে সমাধানের পরিবর্তে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে সাবেক জাতীয় এই ফুটবলার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও এবং বানোয়াট তথ্য প্রচার শুরু করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক জাতীয় ফুটবল কোচ এস.এইচ.এম. সামসুদ্দোহা চাঁদ বলেন,
“আমি দেশের জন্য খেলেছি, কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে একটি ছাদের জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে ও আমার পরিবারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে। প্রচারিত ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা।”
এ সময় তার ছেলে ও আলহাজ্ব আবদুল খালেক ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক সাইফ দোহা বলেন, “আমাদের ব্যক্তিগত প্রাইভেসিতে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এই অন্যায় ও মানহানিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তিনি আরও জানান, আরচ্যারী কোচ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, ব্রিগেড ও ডিভিশন আরচ্যারী দলের প্রশিক্ষক হিসেবে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে দীর্ঘ ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি ফুটবল রেফারি হিসেবেও তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তিনি জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২১ এ “সেরা রেফারি” পুরস্কার অর্জন করেন।
উল্লেখ্য, এস.এইচ.এম. সামসুদ্দোহা চাঁদ দেশের একজন প্রথিতযশা ক্রীড়াবিদ। ১৯৭৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া এই স্ট্রাইকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও ভিক্টোরিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে খেলেছেন। কোচ হিসেবেও রয়েছে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। তিনি ১৯৯৩ সালের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-১৬ নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।
তিনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই দলে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ফুটবল দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
ফরিদপুর প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.















কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে