পাহাড়ী ভাবনা- কলমে মিজানুর রহমান


পাহাড়ী ভাবনা।
…………………….
কলমে: মিজানুর রহমান (মুকুল)
একদিন বুড়ো হয়ে যাবো আমিও।
ঐ বুড়ো পাহাড়টার মত। পাহাড়ের বয়স কত জানিনা।
জানার ইচ্ছাও নেই।
আমার বয়স সবে ৪৮ এ পা দিলাম।
পাহাড়ের সাথে আমার সম্পর্ক একযুগেরও বেশি হবে। পাহাড়ে কবর দেখেছি।
কবরের মত পাহাড় দেখেছি।
আর আমাকে আমি দেখেছি ভেতর থেকে।
ভালোবাসা রং বদলায়। নিজেকে বদলায় না।
আমি আমাকে বদলাইনি।
শুধু আমার রং বদলেছি মাত্র। তবে সেটা ইচ্ছায় নয়,অনিচ্ছায়। আমি ভালোবাসি পাহাড়কে। সিদ্ধান্তটা একা নেইনি। ঝর্ণা আর সমুদ্রের কাছে অনুমতি নিয়েই নিয়েছি। সমুদ্রের গর্জন আছে, আমার নেই। ঝর্ণার কান্না আছে, আমার নেই।
তবে পাহাড় বধির,আমার মত। কথা বলেনা,আমিও না। পাহাড়ে রাত আছে। আমারও একটা অন্ধকার আছে পাহাড়ের মত।পাহাড়ে মেঘের খেলা দেখেছি। আলো আঁধারির খেলা। পাহাড়ও তার রং বদলায়। সকালে, দুপুরে, বিকেলে। রাতে পাহাড় একা হয়ে যায়। আমিও একা হয়ে যাই অজান্তেই।পাহাড়ের কোনো ক্যামেরা নেই,ক্যামেরাম্যানও নেই।
আমার ক্যামেরা নেই, তবে ক্যামেরাম্যান আছে। ওর নাম দীদার। মারাত্মক ফেসবুকার। ভয়াবহ এআই বিশেষজ্ঞ। মাঝে মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে চা খায়। পাহাড়ে বৃষ্টি হয়, ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির পানি ঝর্ণা হয়ে গড়িয়ে পড়ে সমতলে। আমার ভেতরেও রক্তক্ষরণ হয় বৃষ্টির মত।
আমার কোনো ঝর্ণা নেই। নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। হৃদপিন্ডের বৃষ্টিগুলো পরিশুদ্ধ হয় অলিন্দ-নিলয় আর শিরা উপশিরায়। পাহাড়ের কোনো ঘর নেই, পাহাড় নিজেই আস্ত একটি ঘর। আমি নিজেই একটি পাহাড় হতে চলেছি। ভ্রাম্যমান পাহাড়। পাহাড়ে ঘর বাঁধার স্বপ্নও আমার নেই।
প্রথম দিকে একটা পাহাড় কেনার শখ ছিলো আমার। এখন নেই। পাহাড় কিনলে পাহাড়ের নাম হতো ” মুকুল পাহাড়”। কী বিশ্রী নাম! পাহাড়ের নাম হতে হয়,কংলাক,আদিনাথ,কেওক্রাডং,হিমছড়ি, মারাইতং ইত্যাদি।
আমার নামে পাহাড় বিশ্রী হবে। তাই পাহাড় কেনার শখ নেই আর। পাহাড়ের হিংসা নেই। আমার ছিলো,এখন নেই। হিংসার দৌড়ে হেরে গেছি হয়তো,তাই। পাহাড়ের অহংকার আছে। শুধুই মাথা উঁচু করে থাকে। আমারও আছে। পাহাড়ে ওঠার অহংকার।

দাউদ ভাই’র নেই। তার হার্টে সমস্যা। রবিউল কাকারও সমস্যা। কাকা নিজেই একটা পাহাড়। জগদ্দল পাহাড়। সেও পাহাড় ভালোবাসে। কাউকে বলেনা। গোপন ভালোবাসা গভীর হয়।
সমতল থেকে পাহাড়ের সবকিছু ছোটো ছোটো দেখায়। পাহাড় থেকেও সমতলের সবকিছু ছোট দেখায়। গরুগুলো সমতলের ঘাস খায়। পাহাড়ে ওঠেনা। পাহাড়ে অনেক ঘাস লতাপাতা।
হিমছড়ির চূড়ায় একটা বাছুর দেখেছিলাম। বেঁচে আছে কিনা জানিনা। দাউদ ভাই তারও আগে একবার গিয়ে বাছুরটাকে দেখে এসেছিলো। আবার একদিন যাবো,বাছুর দেখতে, হিমছড়ি।
বাছুরটার একটা বন্দোবস্ত হওয়া দরকার। পাহাড় জয়ের বন্দোবস্ত। আমার কোনো বন্দোবস্ত নেই। সমতলে,পাহাড়ে কোথাও নেই। উদ্বাস্তুর কোনো বন্দোবস্ত থাকতে নেই।
যাকে নিয়ে এতো ভাবনা আমার-সে কি আমার কথা ভাবে? আমি এক বন্দোবস্তহীন ভ্রাম্যমান,উদ্বাস্তু,পাহাড়প্রেমী যাযাবর প্রেতাত্মা।
কলমে: মিজানুর রহমান (মুকুল)
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.














কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে