আলফাডাঙ্গায় মধুমতির তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস,আতঙ্কে শত শত পরিবার DBB


ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প,শত শত বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে টেন্ডারকৃত ৫০০ কোটি টাকার মধুখালি হতে আলফাডাঙ্গা পর্যন্ত ২৮ প্রকল্পে চলমান কাজে বাঁধ নির্মাণের ধীরগতি ও অনিয়মের মধ্যে দিয়ে হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় ও স্হানীয় পত্রিকা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নদীর তীররক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস দেখা দিয়েছে। ফলে তীরবর্তী শতাধিক পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউনিয়নের মাঝামাঝি চর আজমপুর এলাকায় ডান তীর রক্ষায় ৩০০ মিটার বাঁধের নির্মাণ কাজ করছে মেসার্স লিটন মল্লিক নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখনো পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে বাঁধের আনুমানিক ৩০ মিটার ধসে পড়েছে। এতে সিসি ব্লকগুলো পর্যায়ক্রমে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের মান শুরু থেকে নিম্নমানের। কাজের তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এবং যথাযথ ডাম্পিং না করে সিসি ব্লক বসানোর কারণে বৃষ্টির পানিতেই বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা এখনো কাজ বুঝে পায়নি। কাজে অনিয়ম হলে তার দায়ভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। নতুন করে এবারো গোপালপুর, টগরবন্দ, পাচুড়িয়া, বানা ও বুড়াইচ ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে জনপদ।
২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন হলেও কাজের ধীরগতির কারণে প্রকল্প এলাকার ভেতরেই এবং নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা, বানা ইউনিয়ন ও বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়ীয়া, টগরবন্দের শিকারপুর ও টিটা-পানাইল গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।
গোপালপুর ইউনিয়নের স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো এখন নদীভাঙনের হুমকিতে। দিগনগর পয়েন্টে আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। টগরবন্দ ইউনিয়নের শিকারপুর বাজার, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির পেছনে নদীর পাড়ে ধ্বংসযজ্ঞের ছবি এখন নিত্যদিনের।
খোজ নিয়ে যানা যায়,গত বুধবার (৩০ জুলাই) টগরবন্দ ইউনিয়নের শিকারপুর ও টিটা-পানাইল এলাকার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফরিদপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার এবং উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি মো. রাহাত ইসলাম।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমরা চাই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ হোক।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, “এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা, সিসি ব্লক স্থাপনসহ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।”আজ(৩১ জুলাই) জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারদের সরজমিনে পরিদর্শন করবে।নদী ভাঙ্গন রোধে প্রকল্পের কাজ চলমান আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে বাঁধ নির্মাণের কথা, সেখানেই আজ ভাঙন। কাজের গতি নেই, নজরদারি নেই। আমরা ঘরবাড়ি, স্কুল, ফসলি জমি—সব হারিয়ে ফেলছি।”
আরিফুজ্জামান চাকলাদার
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.















কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে