September 28, 2022

দৈনিক ভোরের বার্তা

সঠিক পথে সত্যের সন্ধ্যানে

সহায়তা নয় পরামর্শ চায় কৃষকরা-রিপোর্ট সফিক খান

1 min read
একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা চারদিক নদী বেষ্টিত

ছবি-দৈনিক ভোরের বার্তা

সঠিক পরামর্শের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্খিত  সফলতা, কৃষি প্রধান বাংলাদেশ, কৃষিতেই নির্ভরশীল ৮০% মানুষ দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলা চারদিক নদী বেষ্টিত জেলার মানুষের আয়ের প্রধান মাধ্যম কৃষি

কৃষকদের সুবিধাতে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে উপ সহকারী নিয়োগ দিলেও ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা চিনেননা এসব দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের।

নিজ উপজেলায় চাকুরীর সুবাদে প্রভাবশালী দুই চারজন কৃষকদের ম্যানেজ করেই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেক উপ সহকারীদের বিরুদ্ধে।

সরজমিন ভোলার বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন চরাঞ্চলে গিয়ে জানা গেছে কিটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধি ও ডিলার ছাড়া কোন কৃষি কর্মকর্তাদের চিনেন না সাধারণ কৃষকরা।

সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কেউ দায়িত্ব পালন করছেন কিনা বলে জানেন না এখানকার কৃষকরা ।  কৃষকরা জানেন না কৃষিকাজ করে লাভজনক উৎপাদনে সহায়তা করতে কৃষিপরামর্শ দিয়ে  দায়িত্ব পালন  করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে সরকার বিভিন্ন ভাবে কৃষকের সহায়তায় বীজ, সার,কীটনাশক বিতরণ করে থাকেন ।

তবে  ভোলা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধিনস্থ কোন কৃষি কর্মকর্তার পদচারণা  ভেদুরিয়ার বিচ্ছিন্ন এলাকা চর চটকিমারায় পরেনি বলে এমন অভিযোগ  চটকিমারা চরের কৃষকদের। এখানকার বড় মাপের একজন কৃষক আমির হোসেন ফরাজী সাংবাদিকদের জানান আমি সাড়ে তিন কানি জমিতে সয়াবিন, ২ কানি জমিতে সড়িষা,ও ১ কানি জমিতে খিরাই, আধা কানি জমিতে আখ,আধা কানি জমিতে করলার চাষ করছি ।

আমার দেশি উন্নত জাতের ৬৪ শতাংশ জমিতে আম,লিচু,আনারস ও বড়ুই এর একটি বাগান রয়েছে, আমার ফলের বাগান দেখতে ও সিজনে  ফল কিনতে অনেক দুর দুরান্ত থেকে লোক আসে।  কিন্ত কোন দিন দেখিনি কোন কৃষি অফিসারকে এখানে আসতে ।

আমি সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা কামনা করছি  না, আমি চাচ্ছি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেউ এখানে এসে কৃষি পরামর্শ দিলে একদিকে আমি উপকৃত হবো অন্যদিকে আমার দেখাদেখি কৃষকরা উদ্ভুদ্ধ হয়ে অধিক আয়ের উৎস হিসেবে কৃষি কাজের পরিধি বাড়িয়ে দিতে সোচ্চার হবে।

তিনি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানান এখানে নিয়মিত একজন কৃষি অফিসার দেয়া ও একটি কৃষকস্কুলের ব্যাবস্থা করে দেওয়ার।

 

এদিকে ভোলা জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় ২৯ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপ সহকারী কৃষি কর্মকতা জানান চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক সভা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাঁদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কেউ সভায় অনুপস্থিত  থাকলে পূর্ববর্তী পাঁচ কার্যদিবসে অনুপস্থিত বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া প্রত্যেক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতি মাসে দুবার ১৫ দিনের পূর্ব কর্মপরিকল্পনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়ার আদেশ রয়েছে ।

তাহলে ভেদুরিয়া ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তা কি ওই সভায় উপস্থিত থাকেন না?  এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে কর্মপরিকল্পনা কি জমা দেন না?   অপরদিকে

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ইউনিয়নে তিনটি ব্লক থাকে। এর প্রতিটিতে একজন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন । সে অনুযায়ী ভোলার ভেদুরিয়া  ইউনিয়নে তিনটি ব্লকের মধ্যে  চর চটকিমারা ব্লকে যিনি দায়িত্বশীল তার কাজ কি?

চটকিমারা  ব্লকের কৃষক আমিনুল ইসলাম, শুকুর আলী,আমির হোসেন  ও আবদুল মতিন বলেন, পরামর্শ পাওয়া তো দূরের কথা, আমরা তাঁকে (কৃষি অফিসার) চিনিই না, কখনো দেখিনি।

কৃষক জশিম বেপারী বলেন, গত বছর একদিন বাজারে মাসুম বিল্লাহ্ নামের একজন ব্লক সুপারভাইজার এসেছে এর পর আর কোন দিন দেখিনি।

বেশিরভাগ কৃষক বলেন, ‘আমাদের গ্রামে  কখনো কোন কৃষি অফিসারকে দেখিনি, তবে ডিলার ও কোম্পানির বিক্রয়  প্রতিনিধিদের পরামর্শ ক্রমে আমরা এখানে কৃষি কাজ করে জীবন জীবিকা চালাই। কখনো লোকসান গুনতে হয় আবার কখনো সামান্য লাভ করি।

 

এ বিষয়ে ব্লক সুপারভাইজার মাসুম বিল্লাহ্ বলেন, ওই ব্লকে আমার অতিরিক্ত দায়িত্ব তাই আমি মাঝেমধ্যে যাই তার পরেও আপনারা যেহেতু বলেছেন এখন আবার যাবো।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন আমাদের কিছু লোকবল সংকট রয়েছে তবে খুব দ্রুতই চটকিমারা চরে একটি কৃষক স্কুল মাঠ স্কুল দেওয়া হবে এবং কৃষকদের ভালোমন্দ দেখবো বলে জানান তিনি।

ভোলা সদর প্রতিনিধিসফিক খাঁন

দৈনিক ভোরের বার্তা

 

Leave a Reply

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial