চিকিৎসা পেশা শুধু রোগ নির্ণয় ও ওষুধ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একজন চিকিৎসকের আন্তরিকতা, মানবিকতা ও ভালোবাসা একজন অসুস্থ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে। সেই মানবিক চিকিৎসাসেবার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন নাক-কান-গলা রোগ ও হেড-নেক সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বাসুদেব কুমার সাহা।
ঢাকার শান্তিনগরে অবস্থিত ম্যালিয়াস ইএনটি স্পেশালাইজড হাসপাতাল-এ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের বাইরে থেকেও রোগীরা তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারে তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও আন্তরিক আচরণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
তবে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়ের জায়গাটি যেন মানবিকতা। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের দরিদ্র তহবিলের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। অর্থের অভাবে কোনো রোগী যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, এমন মানবিক চিন্তাকে সামনে রেখেই অনেক রোগীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া, এমনকি বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও করা হয় বলে জানা গেছে।
ডা. বাসুদেব কুমার সাহার মানবিক উদ্যোগের অন্যতম ব্যতিক্রমী দিক হলো ‘পেশেন্ট ফলোআপ ইন হাউস’ কার্যক্রম। চিকিৎসা শেষে রোগীরা কেমন আছেন, সুস্থতার পথে কতটা এগিয়েছেন—তা জানতে প্রয়োজনে রোগীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। একজন চিকিৎসক নিজে রোগীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন—এমন ঘটনা রোগী ও স্বজনদের কাছে যেমন বিস্ময়ের, তেমনি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতারও।
রোগীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক ব্যবহারও বিশেষভাবে প্রশংসিত। ধৈর্য ধরে রোগীর কথা শোনা, সহজ ভাষায় সমস্যার কথা বোঝানো এবং চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কারণে অনেক রোগীই তাঁর প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন। জটিল রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন সফলতার তথ্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় তাঁর চিকিৎসাসেবার প্রতি মানুষের আগ্রহও বেড়েছে।

১৩ বছর বয়সী রোগী মুস্তাকিম নাদিয়ান বলেন, “স্যার রোগীদের প্রতি খুবই আন্তরিক ও মানবিক আচরণ করেন। তাঁর কথা শুনলেই রোগীদের মনে সাহস ও ভরসা তৈরি হয়। তাঁর কাছে চিকিৎসাসেবা নিয়ে আমি খুবই ভালো আছি এবং সুস্থ আছি, ইনশাআল্লাহ। আমি তাঁর সাফল্য কামনা করি।”
শুধু চিকিৎসক হিসেবেই নয়, একজন মানবদরদী মানুষ হিসেবেও ডা. বাসুদেব কুমার সাহার প্রতি রোগী ও স্বজনদের ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তাঁর চিকিৎসাসেবায় উপকৃত রোগী ও পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও দোয়া ও শুভকামনা করেন।
হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতাও রোগীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুদেব কুমার সাহার নম্রতা, ভদ্রতা ও সহজ-সরল আচরণ রোগী ও স্বজনদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত। চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরির কারণে হাসপাতালটির প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ছে।
ডা. বাসুদেব কুমার সাহার কাছে চিকিৎসা যেন কেবল একটি পেশা নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মহান দায়িত্ব। তাঁর বিশ্বাস—একজন চিকিৎসকের সাফল্য শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন, তার হিসাবেই নয়; বরং কতজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন, তার মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা।
এ ব্যাপারে ডা. বাসুদেব কুমার সাহা বলেন, “চিকিৎসক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো একজন অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তার মুখে হাসি ফোটাতে পারা। একজন রোগী যখন সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যান, তখন সেটিই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো মানুষ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন-এটাই আমার চেষ্টা। রোগীর প্রতি দায়িত্ব শুধু হাসপাতাল পর্যন্ত নয়; চিকিৎসার পরও তাঁর সুস্থতার খোঁজ নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি যতদিন চিকিৎসাসেবায় থাকব, মানুষের পাশে থেকে এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং চিকিৎসার পরও রোগীর খোঁজ নেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ডা. বাসুদেব কুমার সাহার এই মানবিক পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে-এমন প্রত্যাশা রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের। তিনি সালথা উপজেলার ৮নং বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃতী সন্তান, তার বাবার নাম শুকুমার সাহা।
ভাঙ্গা(ফরিদপুর) প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com