ইয়াবাসহ আটক দুই যুবককে থানায় সোপর্দ নামে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ


ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ইয়াবা বিক্রির সময় স্থানীয়দের হাতে আটক দুই যুবককে থানায় সোপর্দ না করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিবের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং এ ঘটনা ফেসবুকে পোষ্ট করা পরে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া গ্রামের লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে এমন ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী একই গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজের কাছে দুটি ইয়াবা বিক্রি করছিলেন। এ সময় স্থানীয় ২০ থেকে ২২ যুবক তাদের হাতেনাতে আটক করেন।
পরে খবর পেয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব ঘটনাস্থলে যান। উপস্থিত লোকজনের ভাষ্য, তিনি দুই যুবককে থানায় নেওয়ার কথা বলে মাইক্রো গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
স্থানীয় যুবক আমীর হামজা, শাকিলসহ কয়েকজন জানান, পরদিন শুক্রবার সকালে তারা আলফাডাঙ্গা থানায় গিয়ে জানতে পারেন, আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একরামুল হক ও মফিজুর রহমান নামে দুই বাসিন্দা বলেন, এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে তরুণরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কিন্তু এমন ঘটনায় তাদের মনোবল দুর্বল হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে হাসিবুল হাসান হাসিব বলেন, আমি ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি দুই যুবককে মারধর করা হচ্ছে। আমি তাদের উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করি। ওসি সাহেব মারধরের কথা শুনে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তিনি দুই যুবককে থানার সামনে নিয়ে যান। তার দাবি, সেখানে আবারও ওসির সঙ্গে কথা হয়। পরে আটক ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেন না বলে লিখিত অঙ্গীকার করলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, হাসিবুল হাসান হাসিব তাকে ফোন করেছিলেন। মারধরের বিষয়টি শুনে তিনি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। কিন্তু আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন যুবক থানায় এ বিষয়ে জানতে এলে তাদের একই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ইয়াবা বিক্রি বা বহনের অভিযোগ একটি আমলযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই বিধিসম্মত। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার মুচলেকার ভিত্তিতে এমন অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ আইনে নেই।
আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.













কবিতা: অনুতপ্ত হতে হবে