স্কুলের শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এসে আবেগ আপ্লুত হয়ে ওঠেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ইব্রাহিমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সাফল্যের উচ্ছ্বাসে স্কুল আমাদের শতবর্ষে' স্লোগানে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল হতে রাত পর্যন্ত বিদ্যালয়ে নবীন আর প্রবীণদের এক মিলনমেলা বসেছিল ।
অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার সাবেক আর বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এসেছেন। অনেকের সাথে ৩০-৪০ বছর পর দেখা হয়েছে। স্বাধীনতার আগে বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন, বোর্ডে সেরাদের একজন মো. শামসুর রহমান। ঢাকা পলিটেকনিক এ শিক্ষকতা করেছেন ৩০ বছরের বেশি সময়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর অনেকের সাথে দেখা হয়েছে। অনেক ভালো লেগেছে।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা।
এরপর বেলা ১১টার দিকে উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ডেবোনেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা।
আফরোজা খানম রিতা বলেন,! আমার বাবা এই স্কুলের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। আমার আজকের এ অবস্থানে আসার একমাত্র কারিগর আমার বাবা। আমাদের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি দেশপ্রেমেও উদ্বুদ্ধ হতে হবে।ডেবনেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আইয়ুব খান বলেন, এই বিদ্যালয় না থাকলে আমরা আজকের এই অবস্থানে আসতে পারতাম না।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী, নবীন-প্রবীণের আড্ডায় প্রাণ ফিরে পায় দিনব্যাপী এ আয়োজন। ইব্রাহিমপুর ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান চত্বর হয়ে ওঠে মুখরিত। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ এখন প্রাণের উল্লাসে মাতোয়ারা। বিশাল প্যান্ডেল জুড়ে চলে দিনভর বিভিন্ন ব্যাচের শৈশবের কথা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা।
ফাঁকে ফাঁকে চলে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সেলফি আর ফটোসেশন। এছাড়াও বর্তমান শিক্ষার্থীরা আবীর রঙে রাঙিয়ে দেয় নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিন পর প্রিয় সহপাঠি বা প্রিয় বান্ধবীকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। শতবর্ষ পূর্তি উৎসবে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশে ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। তারা প্রথমদিনেই ফিরে যান উচ্ছল তারুণ্যে ভরা দিনগুলোতে। পুরোনো সব বন্ধু আর সহপাঠীকে পরষ্পর জড়িয়ে ধরে আত্মহারা হয়ে হাত হাত ধরে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। অনেকে আবার পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে সেলফি তুলতে ব্যাস্ত।
কেউ কেউ স্কুল আঙিনায় হেঁটে হেঁটে পুরোনো গাছগুলো খুঁজতে থাকে, যে গাছতলায় বসে সহপাঠীদের নিয়ে আড্ডা দেওয়ার সব স্মৃতিচারণ করে ক্যামেরায় পুরোনো বান্ধবীদের সাথে ছবি তুলে ফটোসেশন করেন। সকাল থেকে স্কুলের সড়কে ছিলো লোকারণ্য। হাজারো নবীন প্রবীণের প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণে সবুজে প্রকৃতি আর শীতের সকাল। যেন আরও চঞ্চল ও মুখর হয়ে ওঠে স্কুলমাঠ প্রাঙ্গন।
যেন সবার মাঝে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে আগত সকলের আপ্যায়ন, চিকিৎসা, তদারকি ব্যবস্থা করেছেন আয়োজক কমিটি। এছাড়াও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিল কঠোর নিরাপত্তা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডেবোনেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান নাইয়ারা নুর নিপা, আজিমনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর খান, আকিবুল খান, নীতিনির্ধারণী ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. নুরুল হক চৌধুরী মনি, ড. দেওয়ান আব্দুল কাদির, উদযাপন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী লুৎফর রহমান, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন তুষার ও সিনিয়র সদস্য সচিব ফারুক ওয়াদুদ খানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
নাসির উদ্দীন হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com