মাগুরা সদর উপজেলার ছোট জোকা গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার ছেলে নাইমুর ইসলাম ওরফে জাকির মোল্লা প্রতারণা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত।
বিয়ের নামে বহু মেয়ে কে ফাঁদে ফেলে অর্থ-সম্পদ লুট, প্রতারণা-জালিয়াতিই তার কাজ এমন অভিযোগ উঠেছে, বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ছোট জোকা গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার ছেলে নাইমুর ইসলাম ওরফে জাকির মোল্লা বিরুদ্ধে । এবং বিয়ে করায় নাকি তার নেশা, বিয়ের ফাঁদে ফেলে একাধিক মেয়ে কে করেছেন নিঃস্ব ।
অভিযুক্ত নাইমুর ওরফে জাকির প্রতারণার সুবিধার জন্য নাম-পরিচয় গোপন করে থাকতেন। কখনো সেনাবাহিনীর চাকুরী করেন কখনো সরকারী কর্মকর্তার পরিচয় দেন। এমন কথা বলেই ফাঁসাতেন মেয়েদের কে ও মেয়ের পরিবার কে। আবার কখনো মেয়ে কে অসহায় জীবনের গল্প বলতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাতেই মন গলত পাত্রী পক্ষের।
ঠিক হয়ে যেত বিয়ে, আর এভাবেই করেন একাধিক বিয়ে । সুযোগ বুঝে করেন প্রতারণা এখানেই শেষ নয়, বিয়ের পরই শ্বশুরবাড়ির টাকা-গয়না লুট করতেন তিনি। ঠিক এমননি ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ জেলা, পাগলা উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের রামদিঘির পাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে রিতফা খাতুনের সাথে ( ২৪ )।
রিতফা খাতুনের অভিযোগ ২০২৪ সালে রোজার মধ্যে কাজীর মাধ্যমে মাগুরা জেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ছোট জোকা গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা হরফে প্রতারক ছদ্দবেশে নাম নাইমুরের সাথে শরীয়ত মোতাবে বিবাহ হয় ।
এ সময় জাকির মোল্লার নাম পরিচয় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ছদ্মনামে নাইমুর ইসলাম, পিতা- সৌরভ হুসাইন, মিরপুর ১৪, ঢাকা এই ঠিকানা ব্যবহার করে কাবিননামা করে এবং নিজের ছেলেকে বানিয়েছে নিজের পিতা , এমননি ঘটনা ঘটিয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলার ছোটো জোকা গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা হরফে প্রতারক নাইমুর ইসলাম।
রিতফা খাতুন আরোও জানান, আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখি নাইমুর ইসলামের আসল নাম জাকির মোল্লা সে একজন বিবাহিত পুরুষ আমাকে মিথ্যা কথা বলে বিবাহ করে এবং আমার পরিবারের কাছে থেকে ৫ লাখ টাকা ও আমার ফ্যামিলির মাধ্যমে এলাকার থেকে ৮ জনের কাছে থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং তারা হলেন, বিল্লাল, সোহাগ, হ্যাপি, জুয়েল, রাজু সহ ৮ জনের কাছে থেকে ২.৫০ লক্ষ্য করে মোট ২৫ লক্ষ্য টাকা নেন অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি ।
গত বছর ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি এই টাকা নিয়ে পালিয়েছেন বলে এমন অভিযোগ করেন। রিতফা খাতুন বলেন , নাইমুর ইসলাম হরফে জাকির মোল্লার গ্রামের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার ছোট জোকা গেলে, তার পিতা শাহাদাৎ মোল্লাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এবং তার বাড়ির লোকজন আমাকে তাড়িয়ে দেয় । এবং বিভিন্ন ভাষায় গালাগালি করেন তার পরিবারের লোকজন। এবং হত্যার হুমকিও দেন বলে এমন অভিযোগ করেন ওই ভুক্তভোগী রিতফা খাতুন।
এ বিষয়ে নাঈমুর ইসলাম ওরফে জাকির মোল্লার পিতার সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোনো বন্তব্য করতে রাজি নয়। এবং একাধিকবার নাইমুরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি কিন্তু তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
বিয়ে করাটা নেশার মতোই—শুরুতে উত্তেজনা, পরে আস্তে আস্তে অভ্যাস। একবার যেই নেশা লাগে, তখন আর মুক্তি মেলা ভার—বিয়ে যেন তেমনই। নেশা যেমন প্রথমে ভালো লাগে, বিয়েও তেমনি—কিন্তু পরিণতি ভিন্ন হতে পারে! নেশায় যেমন বন্ধুরা উৎসাহ দেয়, বিয়েতেও অনেক সময় তারাই ফাঁসায়।
কেউ কেউ বিয়েকে জীবনসঙ্গী খোঁজার উপায় ভাবে, কেউ ভাবে মিষ্টি এক নেশা। বিয়ের পরে মানুষ যেমন বদলাতে থাকে, নেশাতেও তেমনি ব্যক্তিত্ব পাল্টে যায়। নেশা থেকে যেমন বের হওয়া কঠিন, বিয়ে থেকেও অনেকের পক্ষে বের হওয়া কঠিন। কেউ কেউ বলে, বিয়ে করলে জীবন ধ্বংস হয়—নেশার অপব্যবহারেও তাই হয়।
ভালোবাসা যদি শরতের বাতাস হয়, বিয়ে যেন তার নেশা—মিষ্টি, কিন্তু ধোঁয়াটে। নেশা যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকলে আনন্দ দেয়, বিয়েও তেমন—মিল থাকলে মধুর।
এস এম শিমুল রানা মাগুরা প্রতিনিধি:
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com