সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা অনুষ্ঠিত এক কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মাসুদ মাস্টারসহ মঞ্চে আরও এক নেতা।কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বিস্ফোরক বক্তব্য: “নৌকার প্রার্থীরাও এখন বিএনপি করতে পারে”।
তাহলে বিএনপির আদর্শ কি আজ প্রশ্নবিদ্ধ? এনিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন ফেসবুকে। আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় বিএনপির নেতাদের অবস্থান যেন নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছেন না। ইউনিয়ন পর্যায়ের এই সভায় মঞ্চে দেখা গেলো নৌকা-মনোনয়ন প্রত্যাশীকে সভাপতিত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন, সাথে আরও একজন আওয়ামী লীগ নেতাকেও—ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টায় আলফাডাঙ্গার বেজিডাঙ্গা আমেনা ওয়াহেদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলফাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনিরুল ইসলাম মাসুদ মাস্টার, যিনি ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা চেয়েছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষকদলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। নাসিরুল ইসলামের বিস্ফোরক বক্তব্য: “নৌকার প্রার্থীরাও এখন বিএনপি করতে পারে” মুক্তখবর প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন,"এখন কেউ নৌকার প্রার্থী হলেও বিএনপি করতে পারবে। রাজনীতির বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।"
তিনি আরও বলেন, "মাসুদ চেয়ারম্যান ছিলেন, তাকে মাত্র ৬২ ভোটে জোর করে হারানো হয়েছে। এমন জনপ্রিয় লোককে আমরা বাদ দিতে পারি না।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়—এই কর্মীসভার মঞ্চে ছিলেন আনোয়ার নামে আরও একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি বিএনপির মঞ্চ, নাকি আওয়ামী লীগের ছায়ায় ঢাকা পরা একটি কর্মসূচি? সভায় অনেক নেতাকর্মী তাৎক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করেন।লোকমুখে শোনা গেছে কেউ কেউ সভাস্থল ত্যাগ করেন, আবার কেউ কেউ ‘বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মন্তব্য করেন।
আলফাডাঙ্গা বিএনপির মঞ্চে ‘নৌকার ছায়া’ দেখে কর্মীরা হতবাক। এ শুধু একটি কর্মীসভা নয়, এটি সম্ভবত বিএনপির নীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এখন প্রশ্ন—এটি কি বিচ্যুতি, নাকি নতুন কোনো বাস্তবতার মেনে নেওয়া?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ঈসা মুক্তখবরকে বলেন,"নম্র,ভদ্র, সমর্থক ও কর্মী হতে পারে, এমনকি প্রাথমিক সদস্যও হতে পারে—তাই বলে সংগঠনের বাইরে কাউকে সভাপতি করা যায় না। এটা আদর্শভ্রষ্টতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন। উশৃংখল, টাউট,বাটপার,মাদকে জড়িত ব্যক্তিদের দলে ঠাই হবে না।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন,"বিএনপির আদর্শে কোনো আপস নেই। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন,সময় হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা করব।
আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com