ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের বাজারে চোরাইকৃত স্বর্ণ ক্রেতা জুয়েলার্স মালিক ও তার ছেলে এবং চুরাইকৃত স্বর্ণ বিক্রেতাসহ তিন সহযোগিকে আটক করে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১১ টার দিকে পৌর সদরের জনপ্রিয় জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ড কুসুমদী গ্রামের বাদশা শেখের ছেলে রবিউল শেখ (৩০), একই এলাকার মৃত কওসার মিয়ার ছেলে গিয়াস মিয়া (৪৭) ও ধলু শেখের ছেলে ইকলাচ শেখ(৪৫)।
ও ইকলাচ শেখ পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার দেউলী গ্রামের স্হায়ী বাসিন্দা এবং পৌর বাজারে ফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।গিয়াস মিয়া একই উপজেলা টগরবন্দ ইউনিয়নে টিটা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাসা বাড়ি ও মটর চুরিতে এলাকাবাসি অতিষ্ঠ। রবিউল শেখ জনপ্রিয় জুয়েলার্স এ চোরাই স্বর্ণ বিক্রির করে আসছে।সোহাগ নামে একটি ঘরে চুরির সময় মোবাইল রেখে আসার পরে সেই সূত্র ধরে রবিউলকে সন্দেহ করে আটক করে ভূক্তভূগিরা। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রবিউলের স্বীকারোক্তিতে
জনপ্রিয় জুয়েলার্স রবীন্দ্রনাথ কর্মকার রবি দোকানে গিয়ে চুরাইকৃত স্বর্ণের খোজ মেলে।রবিউল স্বীকারোক্তিতে তিন জনের নাম জানালেও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়,ছিরু শেখের ছেলে আলী শেখ (৩৩) কে বাড়ীতে না পাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। এ সময় চোরাই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত তিন চোর ও দোকান মালিক রবীন্দ্রনাথ কর্মকার রবি(৫৫),ছেলে রাকেশ কর্মকার(১৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে দোকান মালিক রবীন্দ্রনাথ কর্মকার রবি,ছেলে রাকেশ কর্মকার দোকানে জিজ্ঞাসাবাদের তিন দফা চুরিকৃত সোনা রবিউলের কাছ থেকে কিনেছে বলে স্বীকার করেন। পরে সোহাগের টাকা ফেরত দিয়েছি এবং নজরুলের সোনা গালানো হয়েছিল তাও ফেরত দিয়েছি। সপ্তাহ খানেক আগে আরেক দফা কার কাছে বিক্রি করেছি মনে নেই বলে জানান।
লাভলু নামে এক ব্যক্তি বলেন, কয়েক বছরে পৌর এলাকায় ২০ টির মতো বাসাবাড়ি চুরি হয়েছে যা কোটি টাকা উপরে।চোরাই সোনা বাজারের কতিপয় অসাধু স্বর্ন ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বেচা কেনা হয়।বর্তমানে ভরি ১লাখ ৭২ হাজার হলে তারা কেনে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়।স্বর্ন ব্যবসায়ীসহ সকলকে কঠোর বিচারের আওতায় আনা হোক। ঘটনার পর পুরো বাজার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, "আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ উদ্ধার ও আরো ঘটনায় জড়িত আছে কি না জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ বিষয়ে পরে মামলা করা হবে।"
আরিফুজ্জামান চাকলাদার, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com