ভোলায় টানা দুই দিন ধরে তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এতে প্রায় ৭হাজারের ও বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ও ঘর চাপা পড়ে নারী-শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে দৌলতখান উপজেলার পৌসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঝড়ো বাতাসে ঘরের ওপর গাছ পড়ে ঘরের চাপায় মাইশা নামের চার বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশু নিহত হয়েছে। নিহত মাইশা ওই ওয়ার্ডের মো. মনিরের মেয়ে।
একই সময়ে লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়র্ডে বসত ঘরের নিচে চাপা পড়ে মনেজা খাতুন (৫৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছে। নিহত মনেজা খাতুন ওই এলাকার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী। এছাড়াও সোমবার সকাল ১০টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডে গাছের ডাল পড়ে মো. জাহাঙ্গীর (৫০) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে।
একই দিন বিকেল ৫ টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বেদুরিয়া ইউনিয়নের চর রমেশ মাঝির হাট এলাকার ২ নং ওয়ার্ড নিবাসি তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র ফারুক ঘরের চালার উপর গাছ পরলে গাছের আঘাতে মারা যায়।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের দুই দিনের তান্ডবে জেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিত নগদ অর্থ ও খাদ্রসামগ্রী বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়ও নিহতদের পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জোয়ারের তোপে চরফেশনের চরকুকরি মুকরিতে বেড়িবাঁধ ও ইটের সলিং ভেঙ্গে গিয়ে পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়।
মনপুরা উপজেলার চারটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুই হাজার ২০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারনে দুই দিন ধরে পুরো জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকলেও বাংলা লিংক ভালো সেবা দিচ্ছে।
ভোলার জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ভোলার সাত উপজেলার প্রায় ৬০টি ইউনিয়নে কমবেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দুই হাজার ৪৬৫টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ও পাঁচ হাজার ১৫৮টি ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান সোনালী নিউজ কে জানিয়েছেন ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তাৎক্ষনিক নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বসনের জন্য কাজ চলছে।
মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার ও সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি উল্লাহ কাজল ও কলাতলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সোনালী নিউজ কে জানান, মনপুরার চারটি স্থানে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে ১২ টির মতো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার কলাতলি ইউনিয়নে অতি জোয়ারে ৪-৫ফুট পনিতে প্লাবিত হয়েছে। মনপুরায় কলাতলি ইউনিয়নটি মনপুরার সবচেয়ে নিম্নাঞ্চল বলে সেখানকার মানুষ পানিবন্ধি রয়েছে।
চরফ্যাশনের বঙ্গোপসাগর মোহনার ইউনিয়ন চর কুকরি-মুকরি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাশেম মহাজন জানান, তার ইউনিয়নের চর পাতিলা এলাকায় অতি জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একাধিক স্থানেন ইটের সলিং রাস্তা ও বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। তবে বন্যা পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের ভোগান্তি লাগবে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের রাস্তা ঘাট উর্ব্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক দ্রুত মেরমত করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান হাশেম মহাজন।
শফিক খাঁন, ভোলা প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com