বাঙালির ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক বৈশাখী মেলা। জাতি,গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শুধুমাত্র ‘বাঙালি ‘এই পরিচয়ে সকল প্রকার ক্রোধ, গ্লানি, অপ্রাপ্তি, দুঃখ -দুর্দশা মুছে ফেলে সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রিত হন বৈশাখী মেলায়।
‘বাংলা নববর্ষ-১৪৩১’ উপলক্ষে সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের আয়োজনে ছিল ঘুড়ি উৎসব এবং বৈশাখী মেলা। দীর্ঘ চার বছর পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এই আয়োজনটি করেন।
আয়োজনের প্রথম দিন ছিল ঘুড়ি উৎসব। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ খুলনার স্থানীয় মানুষ রীতিমতো ফিরে গেলেন শৈশবের সেই বর্ণিল সময়ে। শিশু থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলেই ব্যস্ত ছিলেন রঙ বেরঙের ঘুড়ি উড়ানো নিয়ে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনূভুতি জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘ শৈশবের সেই রঙিন সময় যেন এক মূহুর্তের জন্য ফিরে এসেছিল তাদের মাঝে।
ব্যস্ততার এই শহরে মানসিক প্রশান্তির এই অভিনব প্রয়াস সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এভাবেই সন্ধ্যায় শেষ হয় ঘুড়ি উৎসব।বর্ষবরণের এই আয়োজনে ২য় দিন ছিল বৈশাখী মেলা এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক ডিসিপ্লিন সুন্দর সুন্দর নামে সাথে সাথে অসাধারণ শৈল্পিক কারুকার্জে প্রস্তুত করেছেন নিজস্ব সব দোকান।
সেসকল দোকানে শোভাপাচ্ছে নানা ধরনের নকশা করা পিঠা,মহব্বতের শরবত, মেয়েদের সাজ-সরঞ্জাম, প্রসাধনী, অভিনব নকশা খচিত হাড়ি, কলসি, লক্ষীঘট, ফুলদানিসহ নানাধরনের জিনিসপত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মোলায়েম স্পর্শ এই সকল জিনিসপত্রের মধ্যে স্পষ্ট। বিকাল ৩টার পর থেকে কেন্দ্রীয় মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। মূহুর্তের মধ্যে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় মেলার স্থান।দোকানগুলোর সামনে ভিড় করতে থাকে মেলায় ঘুরতে আসা উৎসুক জনতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘ দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এই মেলাটি প্রমাণ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ, ভালোবাসা এবং সুস্থ সংস্কৃতিক ভাবধারা। দূর্বিষহ প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের মধ্যে মানসিক প্রশান্তির এই অনন্য আয়োজন হৃদয় কেড়েছে খুলনাবাসীর।
প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্নরূপে উপভোগ করেছেন মেলার সমস্ত আয়োজন। কেউ হয়েছেন প্রিয় মানুষের সাথে ক্যামেরাবন্দী, কেউবা মেতেছেন আবৃত্তি, গান এবং নৃত্যে, অনেকেইতো ফিরে গেছেন রীতিমতো শৈশবের আনন্দে, যার বহিঃপ্রকাশ মাঠের পূর্ব প্রান্তে নাগরদোলায় উপচেপড়া ভিড়।
করোনা মহামারির পরে দীর্ঘ ৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ আয়োজিত এ মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য জহুরুল তানভীর বলেন, ২০১৯ সালের পর আবারো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিলে আমরা বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছি, যেন আমাদের পুরোনো যেই পহেলা বৈশাখের একটা আমেজ থাকতো সেই আমেজটার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
এভাবেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরষবরণ-১৪৩১ এর চমৎকার আয়োজন সম্পন্ন হয়।
মো. নাহিদ হাসান, শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com