শিশু শ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! তবে কেন ইটভাটায় শিশু শ্রম


রাজধানীর পাশে মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলায় অবৈধ অনেক ইটভাটা আছে, যা পরিবেশ দূষণ করছে। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে এসব ইটভাটা বন্ধের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
এছাড়া তিনি আরও বলেন সরকার দূষণকারী ইটভাটা সনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। সিরাজদিখান উপজেলার ধলেশ^রী নদীর দুই পাড়ে বৈধ অবৈধ মিলিয়ে কমপক্ষে ৫০টি ইটভাটা রয়েছে। অবৈধ ইটভাটায় চলছে শিশু শ্রমিক দিয়ে ইট পোঁড়ানোর কাজ। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় যেন ধূসর এসব শিশুর শৈশব। নজরধারী নেই স্থানীয় প্রশাসনের।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১২ থেকে ১৪ বছরের ৪/৫ জন শিশু শ্রমিক দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ করানো হচ্ছে। শুধু তাই না, ওইসব ইটভাটায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কৃষিজমির মাটি কেটে আনা হচ্ছে অহরহ। এছাড়াও ছোট ছোট শিশুদের দিয়ে অবৈধ ইটভাটায় কমিশনের মাধ্যমে হচ্ছে ইট তৈরির কাজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, যে বয়সে শিশু গুলোর স্কুলে লেখা পড়া করতে যাওয়ার সময় অথচ তাদের এখন লেখা পড়া বাদ দিয়ে করতে হচ্ছে ইট ভাটায় কাজ। যেখানে শিশু শ্রম আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দেদারসে শিশু শ্রমিক দিয়ে করানো হচ্ছে ইট ভাটায় কাজ। অথচ নীরব ভূমিকায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। যার ফলে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উপজেলার ইটভাটার মালিকরা।
সিলেটের শিশু শ্রমিক নারায়ন বলেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের সাথে এসেছি। কমিশনের মাধ্যমে কাজ করি এখানে। ১ হাজার ইট আনলোড করলে ১শ টাকা পাই।’আরেক শিশু শ্রমিক বলেন, ‘আমার রোজ ৪ থেকে ৫শ টাকার কাজ করি। আমার মা জানে কিভাবে কাজ করি।’কুড়িগ্রামের শিশু শ্রমিক আশিক বলেন, ‘৭ দিন পরপর আমি ১৮শ টাকা পাই। আমি শুধু ইট উল্টানোর কাজ করি।’
এন বি এম ব্রিকসের ম্যানেজার মনির বলেন, ‘এসব শ্রমিক তাদের বাবা-মায়ের সাথে আসছে। হয়তো অভাবেরর কারণে তারা কাজ করছে।’এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। আর শিশুশ্রম তো কোন ভাবেই করতে পারবে না।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, আমরা গত বছর অনেক গুলো ভ্রাম্যমান আদালত করে ছিলাম এবছরেও করবো। মাটি কাটারও অভিযোগ আছে আমরা সব কিছিু মনিটরিং করছি। এবং দ্রুতব্যবস্থা নিবো।
মোঃতারিকুল ইসলাম–শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
দৈনিক ভোরের বার্তা
About Author
Leave a reply
You must be logged in to post a comment.






