সরকারীভাবে ঘোষণা দেয়ার পরও বন্ধ হচ্ছে না শিশুশ্রমের হার। সরকারের তৎপরতা না থাকায় সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের অবাধে কাজ করাচ্ছে শ্রমিক হিসেবে।
যে বয়সে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যাবার কথা সেই বয়সে দারিদ্র্যের গোলক ধাঁধাঁয় পথ হারিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে স্যাফরন রেস্টুরেন্টে শিশু শ্রমিকদের স্বল্প মুল্যের পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছে মালিকপক্ষ। এসব শিশুরা হোটেলে প্লেট, গ্লাস ধোয়া, ক্রেতাদের টেবিলে খাবার আনা নেয়ার কাজ করতে দেখা গেছে ৪/৫ জন শিশু শ্রমিককে। অথচ এসব কাজ শিশুদের দিয়ে করানো নিষিদ্ধ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কলেজ রোড শ্রীনগর দোহার আন্তঃ সড়কের পাশে অবস্থিত স্যাফরন রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলেই দুজন শিশু শ্রমিক এসে বলে কি খাবেন স্যার। আরেক শিশু শ্রমিক হাতে গ্লাস ভর্তি পানি নিয়ে এসে টেবিলে রাখে।
এ সময় যুবক বয়সী এক শ্রমিক এসে ধমক দিয়ে বলে এই তোরা এখানে দাড়াইছ কেন যা প্লেট, গ্লাস ধু। তখন তারা প্লেট, গ্লাস ধোয়া কাজে লিপ্ত হয়ে যায়। পানি আনতে একটু দেরি হওয়াতে যুবক বয়সী ঐ শ্রমিক তাকে ধমক দিয়ে বলে এই পানি আনতে এত দেরি হলো ক্যান?
স্যাফরন রেস্টুরেন্টে কাজ করা বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বালিয়া গ্রামের মোঃ আলীর ছেলে শিশু শ্রমিক ইলিয়াস(১০) জানায়, আমি এই হোটেলে দুইমাস যাবৎ ১শত আশি টাকা রোজে কাজ করছি। প্রতিদিন ১০/১২ ঘন্টা প্লেট ধোয়ার কাজ করি।
সিরাজদিখান উপজেলার দক্ষিন তাজপুর গ্রামের জমির আলীর ছেলে আরেক শিশু শ্রমিক শান্ত(১২) জানায়, আমি ৭ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখা পড়া করছি। এখন আর পড়ি না। আমি এই হোটেলে ৩মাস যাবৎ ২শত টাকা রোজে কাজ করি। আমি টেবিলে কাস্টমারের খাবার আনা নেয়ার কাজ করি।
শিশু শ্রমিক লিটন(১১) জানায়, এ হোটেলে প্রায় ২মাস হল প্লেট ও গ্লাস ধোয়া ও কাস্টমারদের টেবিলে পানি আনা নেয়ার কাজ করছি। মালিক আমাদের খাটনির তুলনা খুব কম মজুরী দেয়।
এ ব্যাপারে স্যাফরন হোটেল ম্যানেজার শরিফ বলেন, সারাদেশের সব হোটেলেতো এসব শিশুদের দিয়ে কাজ করায়। আমরাও তাদেরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি।
উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলে দেখতেছি।
তারিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টারঃ
দৈনিক ভোরের বার্তা
হেড অফিস: বনশ্রী (৬ম তলা), বাড়ি-৯/ই, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ: রাফেলস ইন মোড়, আর.কে প্লাজা(৩য় তলা), গোয়ালচামট, ফরিদপুর-৭৮০০।
02-55123351, 09638-185366, 01912-144136, +8801559-626229, info@dainikbhorerbarta.com